১৮ই জানুয়ারি দেশে থ্রিজি মোবাইল প্রযুক্তি চালু হচ্ছে

আগামী বছরের ১৮ জানুয়ারি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে থার্ড জেনারেশন (থ্রি জি) মোবাইল ফোন প্রযুক্তিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ওই দিনই মোবাইল ফোন অপারেটরদেরকে থ্রি জি’র লাইসেন্স দেয়া হবে। লাইসেন্স নেয়ার জন্যে এরই মধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে কয়েকটি মোবাইল অপারেটর। লাইসেন্স পেলে তাৎক্ষনিকভাবেই তারা থ্রি জি প্রচুক্তি চালু করবে। ফলে যে সব গ্রাহকের থ্রি জি এনাবেল মোবাইল সেট থাকবে, প্রথম দিন থেকেই তারা থ্রি জি’র সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

সূত্র জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির লাইসেন্স প্রদান এবং এ সংক্রান্ত দিক নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ রোডম্যাপ তৈরি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

প্রণীত ওই রোডম্যাপ অনুসারে ২০০৯ সালের ১৮ জানুয়ারি থ্রি জি’র জন্য লাইসেন্স প্রদানের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে এবং একই দিন বিজয়ী অপারেটরগুলোকে লাইসেন্স হস্তান্তর করা হবে। এর আগে ৩ ডিসেম্বর অপারেটরদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা আহবান করা হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর অপারেটরদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা নেয়ার শেষ দিন হিসাবে ধার্য করা হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি প্রস্তাবনাগুলো বাছাই করা হবে।

বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকটি অপারেটর এরই মধ্যে থ্রি জি প্রযুক্তি চাল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। লাইসেন্স পাওয়া এমনকি লাইসেন্সের জন্য নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই তারা ভেতরে ভেতরে প্রযুক্তিগত কাজ শুরু করে দিয়েছে। এসব অপারেটরের লক্ষ্য লাইসেন্স পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই গ্রাহকদের কাছে থিজি প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দেয়া। একটি অপারেটরের এমন প্রস্তুতি সম্পর্কে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমরাওতো চাই প্রস্তুতি নিয়েই অপারেটররা মাঠে নামুক। তিনি বলেন, কোন অপারেটর যদি এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে থাকে তবে আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাব।

থ্রি জি’র কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে। তবে এখনো বিডের ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ হয়নি। বিটিআরসি’র চেয়াম্যান জানান, বর্তমানে মোবাইল কল রেট যেমন করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে একই ভাবে থ্রি জি’তেও তা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যাতে অপারেটরা ইচ্ছে মতো রেট নির্ধারণ করতে না পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ব্যবসা সফল ওই অপারেটরটি এ ব্যাপারে এতোটাই আত্মবিশ্বাসী যে, বিটিআরসি যে কয়টি লাইসেন্সই (তিনটি বা চারটি) দিক না কেন, ওই তালিকায় তাদের নাম থাকবেই। নিলামে যতো টাকাই লাগুক, তারা থ্রি জি লাইসেন্স নেবেই। সে লক্ষ্যে গত কয়েক মাস আগে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিটিএসগুলোতে থ্রি জি প্রযুক্তি বসানো শুরু করে।

বিটিআরসি’র রোডম্যাপ অনুসারে ২৬ নভেম্বর থ্রি জি’র নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে একই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত মতামত নেয়া হবে। আর এর আগে থ্রি জি’র নীতিমালার খসড়া করা হবে আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে। বর্তমানে খসড়া নীতিমালা তৈরির জন্য একটি কমিটি কাজ করছে।

বর্তমানে দেশে টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত দুইটি কোম্পানি পরীক্ষামূলকভাবে থ্রি জি প্রযুক্তির লাইসেন্স পেয়েছে। বিশ্ববিখ্যাত টেলিযোগাযোগ কোম্পানি এরিকসন এবং চীন ভিত্তিক কোম্পানি হোয়াউই’র ছয় মাসের জন্যে পরীক্ষামূলকভাবে পাওয়া লাইসেন্সের মেয়াদ অক্টোবরেই শেষ হয়ে যাবে। এর মধ্যে এরিকসন অবশ্য কয়েক দফা থ্রি জি প্রযুক্তির মোবাইলের পরীক্ষামূক কার্যক্রম সংশ্লিষ্টদের সামনে প্রদর্শন করেছে।

No comments yet

উত্তর রেখে যান